বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন
শনিবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে কমপক্ষে আড়াইশ’ দোকান পুড়ে গেছে। ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে একশ’ কোটি টাকার। ফায়ার সার্ভিসের ৩১টি ইউনিট, সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ওর্ যাবের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পৌনে চার ঘণ্টা পর সকাল সোয়া ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ আগুন নেভাতে দেয়াল ভেঙে প্রতিষ্ঠানটির পুকুর থেকে পানি নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। নতুবা ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি ছাড়িয়ে যেত। অগ্নিকান্ডে এক সাংবাদিক, বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের তিনজন কর্মকর্তা ও ২৩ সদস্যসহ মোট ৩৫ জন আহত হয়েছেন। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অগ্নিকান্ডের কারণে সরকারি ছুটির দিন শনিবারও ছিল রাজধানীজুড়ে তীব্র যানজট। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আর্তনাদে সেখানকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে আছে। ঈদের আগে মার্কেট খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের বৈদু্যতিক ড্রিল মেশিন দিয়ে ফুটওভার ব্রিজের পিলার ভাঙার সময় আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। তবে ওইসব কর্মচারী সত্যিকার অর্থেই সিটি করপোরেশনের কর্মচারী কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার লিমা খানম যায়যায়দিনকে বলেন, শনিবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে তাদের কাছে ঢাকার নিউ সুপার মার্কেটে আগুন লাগার খবর আসে। ফায়ার সার্ভিসের ৩১টি ইউনিট কাজ শুরু করে। তার সঙ্গে যোগ দেয় পুলিশের জল কামান। জল কামান থেকেও আগুন নেভানোর জন্য পানি ছিটানো হয়।
আগুনের ভয়াবহতার কারণে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগ দেয় সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী, বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ), পুলিশ,র্ যাব, রোভার স্কাউট ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সম্মিলিত চেষ্টায় প্রায় পৌনে ৪ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরোপুরি অগ্নিনির্বাপণের কাজ চলছিল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, অগ্নিকান্ডে আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন এটিএন নিউজের সাংবাদিক মনিরুজ্জামান (৩৩), বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা সার্জেন্ট আরাফাত (৩২), ফায়ার সার্ভিস সদস্য রাসেল (২২), শান্ত (২৪), তৌফিক (২৩), রাজন (২৫), মিলন (২৬), সজীব (২৫), আরিফুল (২৬), কামরুজ্জামান (২৫), শরিফুল (২৪), সোহেল রানা (৩৫), দ্বীপজল (২৪), রাজিব (৩০), আলমগীর (৩৬)। ফায়ার সার্ভিসের স্বেচ্চাসেবক রিফাত (২৩) ও সাব্বির (৩৩)। আনসার সদস্য সবুজ (২০)। দোকান কর্মী বায়জিদ (২৫), হাসান (২০), লিমন (২৮), শাহ আলম (২০), কামাল হোসেন (৩৩), জীবন (২২), জিসান (১৮), ইয়াসিন (২৪), স্বপন (২৩), ফিরোজ আলম (৩০), সাফিন (১৮), ফারহান (২২), রাশেদ (৩০) ও সাব্বির (১৮)। ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী জীবন (৩০) ও তৈরি পোশাকের একটি দোকানের মালিক ইমাম হোসেন আলী (২৬)। স্বেচ্ছাসেবী চান মিয়া (১৮)।
মার্কেটের দায়িত্বরত নাইট গার্ডরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যায়যায়দিনকে জানান, নিউ মার্কেট ফুটওভার ব্রিজটি ভাঙার কাজ চলছে। ভাঙার কাজ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ৪/৫ দিন আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লোকজন এসে ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়িগুলো ভেঙে দিয়েছে। শনিবার ভোর ৫টার দিকে ৮/১০ জন লোক আসে। তাদের গায়ে ছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মনোগ্রাম লাগানো গাউন। তারা হ্যান্ড ড্রিল মেশিন নিয়ে আসে। তারা নিউ সুপার মার্কেটের পূর্ব দিকের কলাপসিবল গেটের সামনে আসেন। দ্রম্নত বিদু্যতের লাইন দেওয়ার জন্য পয়েন্ট দেখিয়ে দিতে বলেন। তাদের কথা মতো দোকানের বাইরে থাকা পয়েন্ট দেখিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর সেখানে তারা ড্রিল মেশিনের বৈদু্যতিক তারের মাথা পয়েন্টে লাগিয়ে ফুটওভার ব্রিজের পিলারের উপরের অংশ অর্থাৎ আড়াই তলা বরাবর সিঁড়ি ভাঙার কাজ শুরু করেন। এ সময় মার্কেটের প্রধান ইলেকট্রিশিয়ান সিটি করপোরেশনের ওইসব লোকদের বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়ার পর কাজ করার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা কোনো কথা না শুনেই কাজ শুরু করে দেন। ওই বৈদু্যতিক মিস্ত্রির নাম ভুট্টো বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি।
কাজ করার এক পর্যায়ে সেখানে শর্টসার্কিট হয়। শর্টসার্কিট হয়ে পাশে থাকা কাপড়ের দোকানে আগুন ধরে যায়। আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও কোনো কাজ হয় না। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে। মাত্র আধ ঘণ্টার ব্যবধানে আগুন মার্কেটের তৃতীয় তলায় ছড়িয়ে পড়ে। মার্কেটটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় তৈরি পোশাকের দোকান। কাপড়ে আগুন লেগে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সিটি করপোরেশনের লোক পরিচয়ে আসা ব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে তারা সত্যিই সিটি করপোরেশনের লোকজন না অন্য কেউ তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভোর ৫টার দিকে সিটি করপোরেশনের সাধারণত পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করেন। কিন্তু ভাঙার কাজ করা ব্যক্তিরা এত সকালে কেন এসেছিলেন তা নিয়ে পুরো নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।
কেউ কেউ বলছেন, করোনা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে বিশ্ব মন্দা সবই বাংলাদেশ ভালোভাবে মোকাবিলা করেছে। এখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় ভালো। দেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে দিতেই দেশি-বিদেশি কোনো গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মার্কেটে মার্কেটে ঈদের আগে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগাচ্ছে কিনা তা সন্দেহের ব্যাপার। বিষয়টি সরকারকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
নিউ সুপার মার্কেটটি নিউ মার্কেটের পিছনে বনলতা কাঁচা বাজার ও সুপার মার্কেট লাগোয়া। আগুন অত্যন্ত দ্রম্নততার সঙ্গে প্রথমে তৃতীয় তলায় এবং পরে দুই তলায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে নিচতলায় কোনো দোকানে আগুন লাগেনি। আগুন নেভানোর সময় পানিতে দোকানের কিছু কিছু মালামাল ক্ষতি হয়েছে। দুপুর আড়াইটা নাগাদ মার্কেটটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় দফায় দফায় আগুন জ্বলছিল। কালো ধোঁয়ায় পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়। এতে করে সেখানে কেউ নিঃশ্বাস নিতে পারছিলেন না। বাধ্য হয়ে অনেকেই মালামাল ফেলে জীবন নিয়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে, আগুন লাগার দুই ঘণ্টার মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের পানি প্রায় শেষ হয়ে যায়। আশপাশের পানির কোনো উৎস ছিল না। এ সময় ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পুকুর থেকে পানি নেওয়ার অনুমতি দেয়। কিন্তু পুকুর থেকে পানি আনতে অনেক দূর পর্যন্ত ঘুরতে হয়। এজন্য তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে ঢাকা কলেজের প্রাচীর দেয়াল ভেঙে দিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে ঢাকা কলেজের পুকুর থেকে অনায়াসে পানি নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ পানি না দিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াত অন্তত হাজার কোটিতে।
ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটের নিচতলার একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মার্কেটটিতে দোকানের সংখ্যা ১২৭৫টি। তবে ছোটখাটো দোকান মিলিয়ে দোকানের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। কারণ প্রতিটি দোকানের কোণায় একটি করে ছোট দোকান বসিয়ে ব্যবসা করেন অনেক ব্যবসায়ী। মার্কেটটিতে অন্তত ৩৫ জন নাইট গার্ড আছে। ঘটনার সময় তারা দায়িত্বে ছিলেন। তারা কি দায়িত্ব পালন করেছেন তা জানা দরকার। নাম পরিচয় গোপন রেখে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর লোক নাইট গার্ডের চাকরি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এমন অগ্নিকান্ডের ঘটাতে সহায়তা করেছে কিনা তাও তদন্ত করা প্রয়োজন।
আগুন ভয়াবহ হওয়ার কারণ সম্পর্কে একাধিক ব্যবসায়ীর দাবি, ঘটনার সময় দোকান বন্ধ ছিল। আর অধিকাংশ দোকানেই কেউ থাকে না। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় প্রায় ৯০ ভাগই কাপড়ের দোকান। আগুন তাপে ভেতরে ভেতরে ধরে গেছে। এরপর ফায়ার সার্ভিস প্রতিটি দোকানের সাঁটারের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আগুন নিভায়। এতে করে ফায়ার সার্ভিসকে আগুন নিভাতে চরম বেগ পেতে হয়েছে। আগুনের তাপে অনেক এসি বিস্ফোরিত হয়েছে। বিস্ফোরণের কারণে আগুন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
মার্কেটটির দ্বিতীয় তলার এক ব্যবসায়ী চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের সিঁড়িতে বসে বিলাপ করে কাঁদছিলেন। জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘আমি নারায়ণগঞ্জ চিটাগাং রোডে থাকি। খবর পেয়ে দ্রম্নত ছুটে আসি। এসে দেখি আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভাই আমি শেষ।’
‘আমার সব স্বপ্ন চোখের সামনে পুড়ে গেল। আমি আর মজিবর রহমান মিলে মার্কেটটির দ্বিতীয় তলায় ২৫৮ নম্বর আর তৃতীয় তলায় ৩২২ নম্বর দোকান চালাই। দুইটি দোকানে ৬০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল বের করতে পেরেছি। তাও আবার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। আমি জীবন বাজি রেখে সেখানে গেছি। দেখি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ছাদ গর্ত করে সেখান দিয়ে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। তাতেও কাজ হচ্ছে না। এক পর্যায়ে ধোঁয়ায় আমার মরণ দশা হয়। আমি কোনো মতে প্রাণ নিয়ে বেরুতে পেরেছি। আমার বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী থানাধীন ধামরন গ্রামে। আমি এখন পুরোপুরি নিঃস্ব। ঈদের আগে সব টাকা দোকান খাটিয়েছি। সব পুড়ে এখন পথের ফকির।’ বলেই উচ্চস্বরে কাঁদতে লাগলেন।
দুপুর দুইটার দিকে প্রায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ব্যবসায়ী আলমগীরকে। তিনি নুরজাহান ফেব্রিকসের মালিক। তিনিই ওই মার্কেটের অন্যতম থ্রি পিসের বড় ব্যবসায়ী বলে স্থানীয় দোকানিদের দাবি। তার ৩১০, ৩১১ ও দ্বিতীয় তলায় ২৩৪ নম্বর বিশাল থ্রি পিসের দোকান পাইকারি দোকান। দোকানে ঈদ উপলক্ষে কোটি কোটি টাকার মালামাল তুলেছেন। সব শেষ হয়ে গেছে। তিনি দোকান থেকে একটি থ্রি পিসও বের করতে পারেননি। তার মাথায় প্রায় আধ ঘণ্টা পানি ঢালার পর চোখ মেলে তাকালেন। কিন্তু কিন্তু কিছুই বলতে পারলেন না। শুধু দু’চোখ বেয়ে অশ্রম্ন ঝরছিল।
ফুটওভার ব্রিজের নিচের শিশুদের নানা সামগ্রীর ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান ভোর ৬টায়। তার দাবি, সিটি করপোরেশনের লোকজনের খামখেয়ালীর কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। বিদু্যতের লাইন বন্ধ করে কাজ করলেই আর কিছু হয়তো হতো না। কিন্তু তারা বিদু্যতের লাইন বন্ধ করেননি। তিনি ১৫ বছর ধরে সেখানে ব্যবসা করছেন।
কিন্তু কোনো দিন সিটি করপোরেশনের ভাঙার কাজ করার লোকজনদের এত সকালে কাজ করতে দেখিনি। তাই তিনি কাজ করতে আসা লোকজন সত্যিই সিটি করপোরেশনের কিনা তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সকালে কাজ করলেও সিটি করপোশেনের ভাঙার কাজ করা লোকজনরা সাধারণত এত সকালে কাজ করতে কোনো সময় দেখিনি। তাই সন্দেহ হচ্ছে।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ঈদের আগে মার্কেটে মার্কেটে অগ্নিকান্ডের ঘটনাগুলো নাশকতা কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান করার অনুরোধ করেন। তিনি আরও বলেন, ভবনটি ২০১৬ সালেই অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল ফায়ার সার্ভিসের তরফ থেকে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) মো. মনজুর রহমান জানান পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুলস্নাহ আল-মামুন নিজেই অগ্নিকান্ডের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
দুপুরে ডিএমপি কমিশনার পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার গোলাম ফারুকসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মানবিক পুলিশের ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকায় সম্প্রতি মার্কেটে মার্কেটে অগ্নিকান্ডের পেছনে কোনো ধরনের নাশকতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে ভোর থেকেই দায়িত্বরত বাহিনীর সদস্যদের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মালামাল সরিয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।
এদিকে সকালেইর্ যাব মহাপরিচালক পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক এম খুরশীদ হোসেন ঢাকারর্ যাব ব্যাটালিয়নের সদস্যদের নিউ মার্কেটের অগ্নিকান্ডে কাজ করার নির্দেশনা দেন। এমন নির্দেশনার পরর্ যাব সদস্যরা আগুন নেভাতে সহায়তা করে। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের জানান, ‘অগ্নিকান্ডের বিষয়টি নিছক দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা সে বিষয়ে আমাদের গোয়েন্দারা কাজ করছেন। অগ্নিকান্ডের প্রকৃত রহস্য জানার চেষ্টা অব্যাহত আছে।’
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটে লাগা আগুনে অন্তত আড়াইশ’ দোকান পুড়ে গেছে। এতে অন্তত শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মার্কেটটিতে ১২শর বেশি দোকান ছিল।
নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন জানান, আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ শেষ হওয়ার পর দোকান খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এছাড়া মার্কেটের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি আগে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরই দোকান খোলার সিদ্ধান্ত হবে। তবে যেসব দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি সেসব দোকান কখন থেকে খোলা হবে তা সম্মিলিত সিদ্ধান্তের পর জানানো হবে।
এদিকে বিকাল নাগাদ নিউ মার্কেট এলাকায় হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে গেছে। তারই মধ্যে মানুষ যে যা পারছে দোকান থেকে বের করে নিচে ফেলছে। তা ছোট ছোট ট্রাকে ও মাথায় করে এবং নানাভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাতে সহযোগিতা করতে দেখা গেছে সকল বাহিনীর সদস্যদের।